মুমিন হওয়ার জন্য করণীয়। পার্ট-০২

মুমিন হওয়ার জন্য করণীয়। পার্ট-০২

ঈমান ও আক্বীদাহ

* আখেরাত সম্বন্ধে নিম্নোক্ত ঈমান-বিশ্বাস রাখতে হবে।

আখেরাত বা পরকাল সম্বন্ধে বিশ্বাস করার অর্থ হল মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে কবর ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়, হাশর-নাশর ও তার সাক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং জান্নাত জাহান্নাম ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় যেগুলাে সম্পর্কে ঈমান আনার শিক্ষা দেয়া হয়েছে তার সবকিছুতেই বিশ্বাস কল অতএব এ পর্যায়ে মােটামুটিভাবে নিম্নোক্ত বিষয়াবলীতে বিশ্বাস রাখতে হবে।

১. কবরে মুনকার-নাকীরের সওয়াল জওয়াব সত্য।

২. কবরের আযাব সত্য।

৩. পুনরুত্থান ও হাশর ময়দানের অনুষ্ঠান সত্য।

৪. আল্লাহর বিচার ও হিসাব নিকাশ সত্য।

৫. নেকী ও বদীর ওজন সত্য।।

৬. আমলনামার প্রাপ্তি সত্য।।

৭. হাউযে কাউছার সত্য। এই উম্মতের মধ্যে যারা পূর্ণভাবে সুন্নাতের। পায়রবী করবে, কেয়ামতের ময়দানে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া। সাল্লাম তাদেরকে একটি হাউজ থেকে পানি পান করাবেন, যার ফলে আর তাদেরকে পিপাসায় কষ্ট দিবে না। এই হাউজকে বলা হয় “হাউজে কাউছার”।

৮. পুলসিরাত সত্য। জাহান্নামের উপর একটা পুল স্থাপন করা হবে, যা চুলের চেয়ে সরু এবং তলােয়ারের চেয়ে ধারালাে হবে। এটাকে বলা হয়। পুলসিরাত। সকলকেই এই পুল পার হতে হবে।

৯. শাফাআত সত্য। পরকালে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাফেজ, মুজাহিদ প্রমুখ শ্রেণীল লােকদেরকে বিভিন্ন পর্যায়ে সুপারিশ। করার ক্ষমতা দেয়া হবে। রসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক প্রকারের শাফাআত বা সুপারিশ করবেন। ১০. জান্নাত বা বেহেশত সত্য।

১১. জাহান্নাম বা দোযখ সত্য।

* তাকদীর সম্বন্ধে নিম্নোক্ত ঈমান-বিশ্বাস রাখতে হবে।

১. সবকিছু সৃষ্টি করার পূর্বেই আল্লাহ তাআলা সবকিছু লিখে রেখেছেন।

২. সবকিছু ঘটার পূর্বেই আল্লাহ তাআলা সব কিছু সম্বন্ধে অবহিত এবং তার । জানা ও ইচ্ছা অনুসারেই সবকিছু সংঘটিত হয়।

৩. তিনি ভাল ও মন্দ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা।

৪. আল্লাহ তাআলা কলম দ্বারা লওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে)। তাকদীরের সবকিছু লিখে রেখেছেন।

৫. মানুষ একদিকে নিজেকে অক্ষম ভেবে নিজেকে দায়িত্বহীন মনে করবে না। এই বলে যে, আমার কিছুই করার নেই; তাকদীরে যা আছে তা-ই তাে। হবে। আবার তাকদীরকে এড়িয়ে মানুষ খােদার পরিকল্পনার বাইরেও। কিছু করে ফেলতে সক্ষম- এমনও মনে করবে না।

৬. মানুষের প্রতি আল্লাহর যত হুকুম ও আদেশ-নিষেধ রয়েছে, তার কোনােটি মানুষের সাধ্যের বাইরে নয়। কোনাে অসাধ্য বিষয়ে আল্লাহ কোনাে হুকুম ও বিধান দেননি।

৭. আল্লাহ তাআলার উপর কোনাে কিছু ওয়াজিব নয়, তিনি কাউকে কিছু দিতে বাধ্য নন, যা কিছু তিনি দান করেন সব তাঁর রহমত ও মেহেরবানী মাত্র।

আরও যেসব বিষয়ে ঈমান-বিশ্বাস রাখতে হবে।

১. মে’রাজ সম্বন্ধে ঈমান-বিশ্বাস রাখতে হবে।

২. আরশ কুরছী সম্বন্ধে ঈমান-বিশ্বাস রাখতে হবে।

৩. আল্লাহর দীদার সম্বন্ধে ঈমান-বিশ্বাস রাখতে হবে।

৪. কেয়ামতের আলামত সম্বন্ধে ঈমান-বিশ্বাস রাখতে হবে।

৫. শেষ যুগে হযরত মাহদীর আবির্ভাব হবে- এ বিশ্বাস রাখতে হবে। হযরত মাহদী মুসলমানদের খলীফা হবেন এবং আধিপত্য বিস্তারকারী। নাসারাদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করবেন এবং তাদের দখল থেকে। শাম, কনষ্ট্যান্টিনােপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) প্রভৃতি অঞ্চল জয় করবেন। তাঁর আমলে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং তার আমলেই হযরত ঈসা | (আ.) অবতরণ করবেন। হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমনের কিছুকাল পর।তিনি ইন্তেকাল করবেন।

৬. শেষ যুগে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে- এ বিশ্বাস রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলা শেষ জমানায় লােকদের ঈমান পরীক্ষা করার জন্য একজন লােককে প্রচুর ক্ষমতা প্রদান করবেন। তার এক চোখ কানা আর এক। চোখ টেরা থাকবে। চুল কোকড়া ও লাল বর্ণের হবে, সে খাটো দেহের । অধিকারী হবে। তার কপালে লেখা থাকবে। অর্থাৎ কাস সকল মুমিনই সে লেখা পড়তে পারবে। এ হচ্ছে দাজ্জাল ।।

৭. শেষ যুগে হযরত ঈসা (আ.)-এর পৃথিবীতে অবতরণ হওয়া সম্বন্ধে বিশ্বাস রাখতে হবে।

৮. শেষ যুগে ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাব হবে এ বিশ্বাস রাখতে দাজ্জালের ফেতনা ও তার মৃত্যুর পর আসবে ইয়াজুজ ও মাজ ফেনা। ইয়াজুজ মাজুজ অত্যন্ত অত্যাচারী সম্প্রদায়ের মানুষ। তা সংখ্যা অনেক বেশি হবে। তারা দ্রুত সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং ভীষণ উৎপাত শুরু করবে, হত্যা ও লুটতরাজ চালাতে থাকবে।

৯. কেয়ামতের পূর্বে আকাশ থেকে এক ধরনের ধোঁয়া আসা সম্বন্ধে বিশ্বাস রাখতে হবে। যে ধোঁয়ায় মু’মিন মুসলমানের সর্দির মত ভাব হবে এবং কাফেররা বেহুশ হয়ে যাবে। ৪০ দিন পর ধোঁয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে।

১০. কেয়ামতের পূর্বে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে- এ বিশ্বাস রাখতে হবে। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়ের পর আর কারও ঈমান ককূল হবে।

১১. দাব্বাতুল আরদ সম্বন্ধে বিশ্বাস রাখতে হবে। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়ের দিন বা তার পরের দিন মক্কা শরীফের সাফা পাহাড় ফেটে অদ্ভুত আকৃতির এক জন্তু বের হবে। একে বলা হয় “দাব্বাতুল আরদ” (ভূমির। জন্তু)। এ জন্তুটা মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। সে অতিদ্রুত বেগে সারা। পৃথিবী ঘুরে আসবে। সে মুমিনদের কপালে একটি নূরানী রেখা টেনে। দিবে, ফলে তাদের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে যাবে এবং বেঈমানদের নাকের। অথবা গর্দানের উপর সীল মেরে দিবে, ফলে তাদের চেহারা মলিন হলে যাবে।।

“যদি জীবন গড়তে চান”

এই বইটি থেকে আমাদের এই পোস্টি নেওয়া এই হাদীছ বিষয়ে আরো বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে এই বইটি মধ্যে ,বইটি নিতে চাইলে যে কোনো
ইসলামিক লাইব্রেরী থেকে সংগ্রহ করতে পারেন  বইটি লিখেছেন..

মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন

গ্রন্থকার, আহকামে যিন্দেগী, ফাযায়েলে যিন্দেগী, বয়ান খুতবা, ইসলামী আকীদা ভ্রান্ত মতবাদ,

ফিকহুন্ নিছা, আহকামে হজ্জ, কুরআন হাদীছ ইসলামী ইতিহাসের মানচিত্র ইসলামী মনােবিজ্ঞান প্রভৃতি

বিদ্র্যঃ
আমাদের টাইপিং কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন  


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *