মৃত্যুর দুশ্চিন্তা থেকে সৃষ্ট টেনশন। মৃত্যুকে খারাপ মনে না করা বরং ভাল মনে করা

Uncategorized

এক প্রকার টেনশন হল মৃত্যুর দুশ্চিন্তা থেকে সৃষ্ট টেনশন। রােগীর মনে এরূপ দুশ্চিন্তা আসতে পারে যে, এ রােগে তার মৃত্যু হলে তার উপর নির্ভরশীল ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী প্রমুখ পরিবার সদস্যদের জীবিকা ইত্যাদির কা অবস্থা হবে? রােগীর মনে সৃষ্ট এসব দুশ্চিন্তা রীতিমত টেনশনেও রূপ নিতে পারে।

প্রতিকার: মৃত্যুকে খারাপ মনে না করা বরং ভাল মনে করা। কেননা, মত্য দ্বারা পাপ থেকে রক্ষা ও পৃথিবীর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দনিয়ার কষ্ট-ক্লেশ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় এবং মৃত ব্যক্তি যদি আল্লাহ। প্রেমিক হয়ে থাকে তাহলে এই মৃত্যুই তার প্রেমাস্পদ-আল্লাহর নিকট তান।

দ্রুত পৌছে যাওয়ার এবং দ্রুত জান্নাতে পৌঁছে যাওয়ার মাধ্যম। এই দষ্টিভঙ্গিতে মৃত্যুকে মূল্যায়ন করলে রােগের অবস্থায় মৃত্যুর আশংকায় সে নশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। মৃত্যুকে অনুরূপ দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ।

الدنيا سجن المؤمن وجنة الكافر. (رواه مسلم في كتاب الزهد والرقائق

(৭ ০৭ অর্থাৎ, দুনিয়া হল মুমিনের কারাগার ও কাফেরদের জান্নাত। (মুসলিম)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,

العبد المؤمن يشتري من تصب الدنيا وأذاها إلى رحمة الله . (متفق عليه. رواه البخاري في كتاب الرقاق ۲۰۱۲، ورواه مسلم في كتاب الجنائز ۹۵۰)

অর্থাৎ, মু’মিন বান্দা (মৃত্যুর দ্বারা) দুনিয়ার কষ্ট-ক্লেশ থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে আল্লাহর রহমতের কাছে উপনীত হয়। (বােখারী ও মুসলিম)

অন্য হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,

تحفة المؤمن الموت. (رواه الطبراني في الكبير . قال اليهثمي : ورجاله ثقات)

অর্থাৎ, মৃত্যু হল মু’মিনের জন্য এক তােহফা। (তাবারানী)

বস্তুত মৃত্যু মুমিনের নিকট সবকিছু হারানাের বিভীষিকা নয় বরং সবকিছু পাওয়ার উন্মুক্ত দুয়ার।

উপরােক্ত আলােচনা থেকে প্রমাণিত হল যে, মু’মিনের জন্য মৃত্যু খারাপ। নয় বরং ভাল। তবে মৃত্যু ভাল বলে তা কামনা করা যাবে না। মৃত্যু কামনা করা নিষেধ এবং তা এ কারণে নিষেধ যে, সে নেককার হলে মৃত্যুর মাধ্যমে তার নেক কাজ-এর ধারা বন্ধ হয়ে যাবে, বরং বেঁচে থাকলে সে আরও নেক কাজের সুযােগ পাবে। আর পাপী হলে তার পাপ মােচনের ভবিষ্যত সুযােগও বন্ধ হয়ে যাবে। হাদীছে ইরশাদ হয়েছে,

الموت، إما محسنا فلعله يزداد، وإما مسيئا فلعله لا يتمني أحد

تعتب. (رواه البخاري في باب ما يكره من التمني حديث رقم ۷۲۳۰)

| অর্থাৎ, তােমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে নেককার হলে আশা করা যায় সে আরও বেশি (ভাল কাজ) করতে পারবে। আর বদকার হলে আশা করা যায় সামনে তওবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশ করতে পারবে। (বােখারী)

কেউ যদি পাপী হয়, তাহলে মৃত্যুর পর তার শাস্তি শুরু হয়ে যেতে পারে। এবং আল্লাহর রহমত থেকে সে বঞ্চিত হয়ে যেতে পারে। এরূপ ব্যক্তি রােগাক্রান্ত হলে মৃত্যুকে ভাল মনে করার দ্বারা সে তার দুশ্চিন্তা দূর করতে পারবে না বরং সে শাস্তির ভয়ে আরও বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। আর পাপ কম বেশি সকল মানুষেরই থাকে। তাই সকল রােগীর জন্যই বিশেষভাবে গােনাহ থেকে তওবা করার বিধান রাখা হয়েছে এবং মুমর্ষ। ব্যক্তির জন্য নিয়ম রাখা হয়েছে সে তার জীবনের ভাল-মন্দ কার্যাবলী সম্পর্কে মনে মনে হিসাব-নিকাশ ও পর্যালােচনা করবে না। কেননা এতে মন্দের পরিমাণের আধিক্য দেখে আল্লাহর রহমত পাওয়ার আশা দুর্বল হয়ে। পড়তে পারে এবং মানসিকভাবে সে আরও ভেঙ্গে পড়তে পারে। যারা মুমূর্ষ রােগীর নিকট উপস্থিত থাকবে তাদেরও কর্তব্য রােগীকে আল্লাহর রহমত। লাভের সুসংবাদ প্রদান করা এবং তার জীবনের ভাল কাজগুলাের কথা তার। সামনে উল্লেখ করা, যাতে তার মনে আল্লাহর রহমত লাভের আশা প্রবল হয়। বােখারী শরীফের রেওয়ায়েতে এসেছে- হযরত উমর (রা.)-এর মৃত্যুর প্রাক্কালে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হযরত ওমর (রা.)-এর পেরেশানী। লাঘব করার জন্য তার জীবনের সুকীর্তিগুলাে তার সামনে তুলে ধরেছিলেন। হযরত আয়েশা (রা.)-এর ইন্তেকালের সময় হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) তার প্রশংসা করেছিলেন। মুসলিম শরীফের রেওয়ায়েতে এসেছে- হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) মুমূর্ষ অবস্থায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে তার পুত্র তার। প্রশংসাসূচক বাক্য দ্বারা তাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করেন। | এরপরও রােগীর মনে মৃত্যুর এবং রােগ থেকে মুক্তি লাভ না করার। দুশ্চিন্তা এসে যাওয়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে সে সম্ভাবনাকে হ্রাস করার নিমিত্তে রােগী শুশ্রুষাকারীদের জন্য সুন্নত তরীকা রাখা হয়েছে তারা “রােগী অচিরেই রােগ মুক্ত হয়ে যাবে”, “সে দীর্ঘজীবি হবে” ইত্যাদি আশাব্যঞ্জক কথা। রােগীকে শােনাবে; কোন হতাশাব্যঞ্জক কথা তাকে শােনাবে না। এরূপ ক্ষেত্রের জন্য হাদীছে নিন্মােক্ত বাক্য বলে রােগীকে সান্তনা দিতে শিক্ষা দেয়া। হয়েছে- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্নরূপ বলতেন

طهور إن شاء الله. (رواه البخاري في كتاب المرضی ۵۹۵۹)

لا بأس

অর্থাৎ, আল্লাহ চাহে তাে অচিরেই পবিত্রতা (সুস্থতা) লাভ হবে। (বােখারী)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *