যেসব পাপের কারণে জাগতিক বিপদ-আপদ আসে ।

যেসব পাপের কারণে জাগতিক বিপদ-আপদ আসে ।

পরিবার ও সমাজ

নিরাপদ জীবন গড়ে তােলার জন্য যেসব পাপের কারণে জাগতিক বিপদ-আপদ ও দুঃখ-দুর্দশা আসে সকলে মিলে তা থেকে বেঁচে থাকার সত্যতা প্রয়াস গ্রহণ করতে হবে। বেশ কিছু পাপ রয়েছে যার কারণে জাগতিক বিভিন্ন রকম বিপদ-আপদ দেখা দেয়। নিম্নে তার কয়েকটার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হল । যেমন

মাপ ও ওজনে কম দেয়ার কারণে অনাবৃষ্টি দেখা দেয়।

যখন মাপ ও ওজনে কম দেয়া বেড়ে যায় তখন অনাবৃষ্টি দেখা দেয়।। ফলে ফল-ফসল কমে যাওয়ায় জনজীবনে দুঃখ-দুর্দশা নেমে আসে, শান্তি ও নিরাপত্তার জীবন বিঘ্নিত হয়। এক রেওয়ায়েতে এসেছে

بين القط”. (رواه الحاكم في المستدرك ۸۰۳۶ وقال : إذا بخس الميزان صحيح على شرط الشيخين وأقره عليه الذهبي في التلخیص)

অর্থাৎ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, যখন মাপে কম দেয়া হয় বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যায়। (মুস্তাদরকে হাকিম)

এখানে বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যায় বলে শস্য ফসল কমে যাওয়ার বােঝানাে হয়েছে।

মাপ ও ওজনে কম দেয়ার কারণে দুর্ভিক্ষ আসে।

পি ও ওজনে কম দেয়ার কারণে শুধু শস্য ফসল কমে যায় না, এতটা কমে যায় যে, দুর্ভিক্ষ পর্যন্ত দেখা দেয়। এক রেওয়ায়েতে এসেছে
ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হ’ল সালাত। সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণকে হৃদয়ে সঞ্চারিত রাখার প্রক্রিয়া হিসাবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। আল্লাহ বলেন,

‘আর তুমি সালাত কায়েম কর আমাকে স্মরণ করার জন্য’।   (ত্বোয়া-হা ২০/১৪)

আর প্রতিটি কাজে সফলতার জন্য মৌলিক শর্ত হ’ল একাগ্রতা ও একনিষ্ঠতা। আর এ বিষয়টি ছালাতের ক্ষেত্রে আরো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদনের জন্য একাগ্রতার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখজনক হ’লেও সত্য যে, বর্তমানে এই ব্যস্ত যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে একাগ্রচিত্তে সালাত আদায় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ একাগ্রতাবিহীন সালাত  শুধুমাত্র দায়সারা ও শারীরিক ব্যায়ামের উপকারিতা ব্যতীত তেমন কিছুই বয়ে আনে না। হৃদয়ে সৃষ্টি করে না প্রভুর একান্ত সান্নিধ্যে কিছু সময় অতিবাহিত করার অনাবিল প্রশান্তি। সঞ্চারিত হয় না নেকী অর্জনের পথে অগ্রগামী হওয়ার এবং যাবতীয় অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার কোন অনুপ্রেরণা। সার্বিক অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে রাসূল (ছাঃ)-এর নিম্নোক্ত হাদীছটি একটি কঠিন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন,

‘এই উম্মত হ’তে সর্বপ্রথম ছালাতের একাগ্রতাকে উঠিয়ে নেয়া হবে, এমনকি তুমি তাদের মধ্যে কোন একাগ্রচিত্ত মুছল্লী খুঁজে পাবে না’।  [1]

একই বক্তব্য প্রতিধ্বনিত হয়েছে হুযায়ফা (রাঃ)-এর নিম্নোক্ত বাণীতে। তিনি বলেন,

‘সর্বপ্রথম তোমরা ছালাতে একাগ্রতা হারাবে। অবশেষে হারাবে সালাত। অধিকাংশ সালাত  আদায়কারীর মধ্যে কোন কল্যাণ অবশিষ্ট থাকবে না। হয়তো মসজিদে প্রবেশ করে একজন বিনয়ী-একাগ্রতা সম্পন্ন সালাত  আদায়কারীকেও পাওয়া যাবে না’।  [2]

عن ابن عباس قال : قال رشول الله صلى الله عليه وسلم : ما نق قوم العهد إلا شط الله عليهم عدوهم، … ولا طففوا الكيل إلا منوا النبات واخذوا بالبينين. (التفسير الكبير تحت سورة المطففين

অর্থাৎ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে থেকে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোন সম্প্রদায় ওয়াদা-অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে। আল্লাহ তাদের উপর তাদের শত্রুদের নিযুক্ত করে দেন। … তারা মাপে কম দিলে শস্য-উদ্ভিদ থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয় এবং তাদের ওপর দুর্ভিক্ষ আরােপিত হয়। (তাফসীরে কাবীর)। যাকাত না দেয়ার কারণেও অনাবৃষ্টি দেখা দেয়।

যাকাত না দেয়ার কারণেও অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। হযরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত

অর্থাৎ, কোন সম্প্রদায় ওয়াদা-অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়, কোন সম্প্রদায়ে প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজ হতে থাকলে আল্লাহ তাদের ওপর (অপ)মুত্যু চাপিয়ে দেন। আর কোন সম্প্রদায় যাকাত দেয়া বন্ধ করলে তাদের ওপর বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেয়া হয়। (কানযুল উম্মাল)।

“যদি জীবন গড়তে চান”

এই বইটি থেকে আমাদের এই পোস্টি নেওয়া । এই হাদীছ বিষয়ে আরো বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে এই বইটি মধ্যে ,বইটি নিতে চাইলে যে কোনো
ইসলামিক লাইব্রেরী থেকে সংগ্রহ করতে পারেন । বইটি লিখেছেন..
মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন।

গ্রন্থকার, আহকামে যিন্দেগী, ফাযায়েলে যিন্দেগী, বয়ান খুতবা, ইসলামী আকীদা ভ্রান্ত মতবাদ,

ফিকহুন্ নিছা, আহকামে হজ্জ, কুরআন হাদীছ ইসলামী ইতিহাসের মানচিত্র ইসলামী মনােবিজ্ঞান প্রভৃতি

বিদ্র্যঃ আমাদের টাইপিং এ কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *